Ek engineer ka kahani
আমি রাজু পণ্ডিত কোলকাতায় বাস করি। বাবা মা দিদি কে নিয়ে কৃষ্ণনগর এ থাকতাম।সেখানে কাকাদের সাথে সাংসারিক ঝামেলার জন্যে সব ছেড়ে চলে আস্তে হলো কলকাতায়। সেটা ছিল ১৯৯৯ সাল। বাবা একটা ছোটোখাটো সরকারি দপ্তরের ক্লার্ক ছিল। দাদু কিছুটা সাহায্য করলো আর বাবাও নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে লোন করে একটা পুরোনো বাড়ি কিনলো। দিদির তখন মাধ্যমিক চলছে, তাই আমাকে আর কোনো কনভেন্ট স্কুল এ ভর্তি করতে পারলো না। আমাকে ভর্তি করা হলো একটা সরকারি বিদ্যালয়ে। ২৪ সে সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিন ছিল। সেদিনের কথা আমার্ আজও মনে পরে। দুই দিন ধরে অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে চারিদিকে জলমগ্ন। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে বাথরুম সেরে আস্তে গিয়ে দেখি মেঝে তে এক জায়গায় ফুটো দিয়ে অল্প অল্প করে জল আসছে। আমি বাচ্চা হাত দিয়ে চেষ্টা করতে থাকি জল আটকানোর কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না। জল ঢুকতে শুরু করলো ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে পুরো ঘরে হাঠু সমান জল হয়ে গেলো। সব আসবাবপত্র তাড়াতাড়ি করে ইট দিয়ে উঁচু করতে লাগলাম। বৃষ্টি এখন কমে গেছে দেখে আমরা ছাদে চলে গেলাম। চারিদিকে শুধু জল আর জল। এ এক নতুন অভিজ্ঞতা।পাড়ার সবাই জল এর মধ্যে হেটে হেটে দেখতে আস্তে শুরু করলো আমাদের বাড়িতে কত জল উঠেছে এটাই নাকি সব থেকে নিচু বাড়ি। সব থেকে মজার বেপার হলো তার এক ঘন্টা পরে কিছু ছেলে মাছ ধরতে চলে আসলো আমাদের বাড়িতে। আমার জন্মদিন তখন মাথায় উঠেছে, তাও মা কিছু রান্না করলো জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে। উঠোনে তখন গলা অবধি জল, চারিদিকে সাপ , বাবা মা সব দিক থেকে চেষ্টা করেছিল আমাকে আর দিদিকে আগলে রাখতে।
জীবনের এরকম জন্মদিন যার কোনোদিন আসেনি।
জীবনের এরকম জন্মদিন যার কোনোদিন আসেনি।
Comments
Post a Comment